“আমার মামার স্কুলের একটি শিক্ষা সফরে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরীতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। মামা, মামাতো ভাই এবং স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেই সফরে অংশ নেই। প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ জনের মতো মানুষ ছিল আমাদের সঙ্গে। ফজরের নামাজের পর সকালে বাসা থেকে রওনা দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে বাসে উঠি। এরপর শুরু হয় আমাদের আনন্দের যাত্রা। বাসের ভেতর সবাই বেশ আনন্দ করছিল। কেউ গল্প করছিল, কেউ গান শুনছিল, আবার কেউ নাচানাচিও করছিল। আমি নিজে নাচানাচি করি না, তবে অন্যদের আনন্দ করতে দেখতে ভালোই লাগছিল।”
আর এভাবে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে শেষ পর্যন্ত আমরা গিয়ে পৌঁছাই স্বপ্নপুরীতে। রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জে অবস্থিত স্বপ্নের স্বপ্নপুরী।
সেখানে পৌঁছেই বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখি। অনেক কিছুই মানুষের তৈরি, তারপরও সেগুলোর পরিবেশ ও সৌন্দর্য দেখে বেশ ভালো লেগেছিল। কিছু কিছু জায়গা এত সুন্দরভাবে সাজানো ছিল যে প্রথম দেখায় বাস্তবের মতোই মনে হচ্ছিল। ঘোরার পাশাপাশি আমরা ছবি তুলছিলাম। আমার ছোট ভাই সেদিন প্রথমবারের মতো আমার ছবি তুলেছিল। আগে কখনো ছবি না তুললেও সেদিন বেশ ভালোই ছবি তুলে দিয়েছিল। ঘোরার একপর্যায়ে দুপুরের দিকে আমার ছোট ভাই জানায়। সে আগে কখনো আইসক্রিম খায়নি। পরে আমরা দুজনের জন্য দুটি আইসক্রিম কিনে খাই। এরপর আবার †র বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখি। সব জায়গার নাম এখন মনে না থাকলেও সেদিনের অভিজ্ঞতাগুলো এখনো মনে আছে।
সেই সফরের পর প্রায় চার বছর কেটে গেছে। এরপর আর সেভাবে কোনো শিক্ষা সফরে যাওয়া হয়নি। স্বপ্নপুরীর সেই দিনটি তাই আমার কাছে এখনো একটি সুন্দর স্মৃতি হয়ে আছে। নতুন একটি জায়গা দেখা,পরিবারের মানুষ ও পরিচিতদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নতুন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন। সব মিলিয়ে ২০২২ সালের সেই ভ্রমণ আমার জীবনের মনে রাখার মতো একটি দিন।
লেখক :
এসএম সজীব হোসেন
ধুনট,বগুড়া

