গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

সজীব হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, অনুসন্ধানবার্তা:
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও হারিয়ে যেতে বসা বিনোদনের ধারা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সংগঠন জাস সমবায় সমিতি। বগুড়ার ধুনট উপজেলার চারটি গ্রামের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আয়োজন করা হচ্ছে তিন দিনব্যাপী শীতকালীন সাংস্কৃতিক মেলা ও উৎসব।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছে জাবারীপাড়া, উজাল সিংহ, হোসেনপুর ও শিমুলকান্দি গ্রামের মানুষ। শীতের আবহে গ্রামীণ জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জন্য সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

মেলার প্রস্তুতিতে সপ্তাহে দুই-তিন দিন রাতে রিহার্সেল:

মূল আয়োজনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মেলায় অংশ নেওয়া শিল্পী ও স্থানীয়দের নিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন রাতে রিহার্সেল ও অনুশীলন করা হচ্ছে। নাটক, থিয়েটার, লালনগীতি, জারি-সারি ও লোকসংগীতসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সফলভাবে উপস্থাপনের জন্য নিয়মিত এই অনুশীলন চলছে।

রাতের রিহার্সেল ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। আয়োজকদের আশা, দীর্ঘ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে চার গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে মেলার সাংস্কৃতিক আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

থাকবে গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা আয়োজন:

তিন দিনব্যাপী এই মেলায় নাটক, থিয়েটার, লালনগীতি, জারি-সারি, লোক সংগীতসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মেলাকে ঘিরে চার গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও বাড়বে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

আয়োজকদের ভাষ্য, একসময় শীতের মৌসুমে গ্রামবাংলার বিভিন্ন এলাকায় নাটক, পালাগান, লোকগান, জারি-সারি ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। আধুনিক বিনোদনের বিস্তারের ফলে গ্রামীণ সেই ঐতিহ্যের অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই পুরোনো সেই সাংস্কৃতিক আবহকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নেতৃত্বে স্থানীয় উদ্যোক্তারা:

আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা জহুরুল ইসলাম ও শামীম হোসেন। তাঁদের সঙ্গে সহযোগী উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন খলিলুর রহমান ও আলাই হোসেন। এছাড়া আয়োজনে সহযোগিতায় রয়েছেন শাহজাহান শেখ। পুরো আয়োজনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় রয়েছেন জাস সমবায় সমিতির সভাপতি মো: আলামিন হোসেন।

জাস সমবায় সমিতির সভাপতি আলামিন বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য গ্রামবাংলার বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং স্থানীয় মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে আনন্দঘন একটি পরিবেশ তৈরি করা। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এ শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসব ও মেলাকে সফল করতে চাই।”

শীতকালীন সাংস্কৃতিক মেলা কখন ও কোথায় হবে:

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন দিনব্যাপী এ শীতকালীন সাংস্কৃতিক মেলা ও উৎসবের নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। স্থান ও সময় চূড়ান্ত হওয়ার পর চার গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে শুরু হবে এ আয়োজন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, জাবারীপাড়া, উজাল সিংহ, হোসেনপুর ও শিমুলকান্দি গ্রামের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এ মেলা গ্রামীণ জনপদে আনন্দ ও উৎসবের নতুন আবহ তৈরি করবে। একই সঙ্গে লোকজ সংস্কৃতি ও আবহমান বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।