ইমরান হোসেন ইমন, অনুসন্ধানবার্তা:
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে রাসায়নিক সার। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিবন্ধিত ডিলাররা খুচরা পর্যায়ে সার সরবরাহ না করায় কৃষকদের রোপা-আমন ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে। কারন হিসেবে ভুক্তভোগি কৃষকরা সার সিন্ডিকেটকেই দায়ী করেছেন।
ধুনট উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজেদুল করিম জানান, ধুনট পৌরসভা সহ ১০টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১৬ হাজার ৫৭৯ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল। তন্মধ্যে ১৬ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে।
ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী গ্রামের কৃষক এরশাদ হোসেন জানান, চলতি রোপা-আমন মৌসুমে আড়াই বিঘা জমিতে গুটি স্বর্ণা জাতের ধান রোপন করেছেন। কিন্তু ধানের চারা রোপনের ২০ দিন পর জমিতে সার দেওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি ওই গ্রামের সরকার নিবন্ধিত একটি সারের দোকানে যান। সেখান থেকে তিনি ড্যাব ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৫০ কেজি এবং পটাশ সার কিনেছেন ২৫ কেজি। খুচরা পর্যায়ে সরকারি ড্যাব সার ২১ টাকা বিক্রয়ের নিয়ম থাকলেও তাকে ৩২ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে ইউরিয়া প্রতি কেজি ২৭ টাকার পরিবর্তে ৩২ টাকা ও পটাশ সার প্রতি কেজি ২০ টাকার পরিবর্তে ২৪ টাকায় কিনতে হয়েছে তাকে।
গোপালনগর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে। একারনে ব্যাহত হচ্ছে রোপা আমন ধান চাষ। সারের অব্যাহত দাম বৃদ্ধিতে কৃষকেরা এক প্রকার সিন্ডিকেটের কবলে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী গ্রামের কৃষক আজিবর রহমান বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত যমুনার ভাঙ্গনের সঙ্গে যুদ্ধ করে জমিতে ফসল ফলাই। কিন্তু বর্তমানে বেশি দাম দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না। একারনে চরাঞ্চলে ফসল উৎপাদন করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
এবিষয়ে ধুনট উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবেল আহম্মেদ জানান, খুচরা পর্যায়ে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিবন্ধিত ডিলার ও সাব ডিলারদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে বলে মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
তবে এব্যাপারে ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, সারের কোন সংকট নেই। যদি কোন ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরী করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




